Friday, February 6, 2026

“নীতি সম্পর্কে শামীম আহমেদ খানের বিশ্বাস” / “Shamim Ahmed Khan’s belief regarding principle”

 

ইসলামিক নৈতিকতার আলোকে নীতিবান ও নীতিহীন মানুষের পার্থক্য

ইসলামে নীতি ও আদর্শের গুরুত্ব অপরিসীম। কুরআন ও সুন্নাহ আমাদের শেখায়—সততা, ন্যায়বিচার, আমানতদারি, ধৈর্য ও আল্লাহভীতি একজন মুমিনের প্রকৃত পরিচয়। Shamim Ahmed Khan এই বিশ্বাসে দৃঢ় যে, মানুষের আসল সাফল্য দুনিয়ার লাভে নয়, বরং আল্লাহর সন্তুষ্টিতে নিহিত।

নীতিবান মানুষ আল্লাহকে ভয় করে সিদ্ধান্ত নেয়। সে জানে—আল্লাহ সবকিছু দেখেন এবং একদিন হিসাব নেবেন। তাই সে অন্যায়ের সঙ্গে আপস করে না, সত্য গোপন করে না, এবং কারো হক নষ্ট করে না। কষ্ট হলেও সে হালাল পথ আঁকড়ে ধরে, কারণ তার বিশ্বাস—“নিশ্চয়ই আল্লাহ ধৈর্যশীলদের সঙ্গে আছেন।” (সূরা আল-বাকারা)

অন্যদিকে, নীতিহীন মানুষ আল্লাহর জবাবদিহিতাকে ভুলে গিয়ে নিজের খেয়াল-খুশি ও স্বার্থকে প্রাধান্য দেয়। সে সুবিধামতো সত্যকে বিকৃত করে, অন্যায়কে যুক্তি দেওয়ার চেষ্টা করে এবং দুনিয়ার ক্ষণস্থায়ী লাভের পেছনে ছুটে আখিরাতের ক্ষতি করে ফেলে। এমন মানুষ বাহ্যিকভাবে সফল মনে হলেও অন্তরে থাকে অশান্তি ও শূন্যতা।

ইসলাম আমাদের শিক্ষা দেয়—নীতি মানে শুধু ভালো কথা বলা নয়, বরং কঠিন সময়ে সত্যের পক্ষে দাঁড়ানো। নীতিবান মানুষ জানে, দুনিয়ার ক্ষতি হলেও আখিরাতের লাভই চূড়ান্ত। সে নিজের বিবেক পরিষ্কার রাখে এবং আল্লাহর উপর ভরসা করে সামনে এগিয়ে যায়।

আজকের সমাজে যেখানে আপস ও স্বার্থপরতাকে বুদ্ধিমত্তা বলা হয়, সেখানে ইসলাম আমাদের শেখায়—নীতিতে অটল থাকাই প্রকৃত ঈমান ও শক্তির পরিচয়। নীতিবান মানুষ আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন করে, আর নীতিহীন মানুষ দিকভ্রান্ত হয়ে পড়ে। এই পার্থক্যই দুনিয়া ও আখিরাতের সফলতা নির্ধারণ করে।

Shamim Ahmed Khan, 

Village - Singaria 

PO - Singaria Bazar, Dist - Sribhumi (Karimganj), Assam

Monday, November 24, 2025

সিংগারিয়ার মেয়ে” — হারানো সম্মান ফিরে পাওয়ার এক আবেগঘন গল্প

 সিংগারিয়ার মেয়ে” — হারানো সম্মান ফিরে পাওয়ার এক আবেগঘন গল্প



সে জন্মেছিল শান্ত একটি গ্রাম—সিংগারিয়াতে। যেখানে সকালগুলো ছিল সবুজ গাছপালার গন্ধে ভরা, আর বিকেলগুলো ভরতো পাখির ডাকের সুরে। ছোটবেলা থেকেই তার মন ছিল খুব নরম—সবার ভালো চাওয়া, সবার যত্ন নেওয়া—এটাই ছিল তার স্বভাব। কিন্তু কোমল মানুষদের প্রতি জীবন সবসময় কোমল থাকে না।


বিয়ের পর যখন সে নতুন সংসারে পা রাখল, তার চোখে ছিল অনেক আশা। তার স্বামী—একজন বিদ্যালয়ের প্রিন্সিপাল, সম্মানিত ও বোঝদার মানুষ। তাদের দাম্পত্য জীবন ধীরে ধীরে সুন্দরভাবে গড়ে উঠল—বিশ্বাস, শ্রদ্ধা আর ভালোবাসার ওপর ভিত্তি করে। যারা দেখেছে, সবাই বুঝতে পেরেছে সে কী শান্তি খুঁজে পেয়েছে।


তবুও, তার হৃদয়ে লুকিয়ে ছিল একটি ব্যথা।


তার পিতৃগৃহের পরিবার—যাদের জন্য সে সবসময় ভালো চাইত, দোয়া করত—তারা কখনো তাকে পুরোপুরি গ্রহণ করতে পারেনি। না বলা হাজারো কারণে, সে দূরেই রয়ে গেল—ঘরের মেয়ে হয়েও ঘরের বাইরে। বছর গেল, উৎসব গেল, সময় বদলাল… তবুও সে চুপচাপ নিজের আশীর্বাদ পাঠিয়ে গেছে সেই বাড়ির দিকে, যেখানে সে একদিন ছোট মেয়ে ছিল।


কিন্তু সে কখনো হার মানেনি।


সে নিজের মতোই থেকেছে—সহনশীল, দয়ালু, আর মন থেকে পরিবারের মঙ্গল কামনা করা একজন মানুষ। সে বিশ্বাস করত—একদিন না একদিন, তার আন্তরিকতা বুঝবে সবাই। তার চোখের জল ছিল নীরব, কিন্তু তার আশা ছিল দৃঢ়।


এবং অবশেষে, সেই পরিবর্তনের সময় এল।


তার স্থিতিশীলতা, তার সুন্দর ব্যবহার, তার সম্মানজনক দাম্পত্য জীবন, আর তার অকৃত্রিম শুভকামনা—সব মিলিয়ে তার পিতৃগৃহের মানুষরা তাকে নতুনভাবে চিনতে শুরু করল। বুঝতে পারল—এ সে-ই; সিংগারিয়ার সেই মেয়ে, যে কখনো কারো প্রতি রাগ পুষে রাখেনি।


একদিন সেই দরজাটা খুলে গেল—যে দরজাটি বহু বছর ধরে বন্ধ ছিল। খুব নরমভাবে, খুব সহজভাবে। কোনো নাটকীয়তা নয়—শুধু গ্রহণ করার এক উষ্ণ মুহূর্ত।


আজ তার হাসির মধ্যে গভীরতা আছে।


তাতে রয়েছে— বছরের পর বছর ধৈর্য,

বছরের পর বছর দোয়া,

আর এক নারীর নীরব জয়—যে কখনো নিজেকে বদলায়নি।


আজ সে শুধু একজন স্ত্রী, মা বা পুত্রবধূ নয়…


সে হলো—

সিংগারিয়ার সেই মেয়ে, যে নিজের সম্মান ফিরিয়ে এনেছে ভালোবাসা, সৌজন্য আর অটল বিশ্বাস দিয়ে।

“নীতি সম্পর্কে শামীম আহমেদ খানের বিশ্বাস” / “Shamim Ahmed Khan’s belief regarding principle”

  ইসলামিক নৈতিকতার আলোকে নীতিবান ও নীতিহীন মানুষের পার্থক্য ইসলামে নীতি ও আদর্শের গুরুত্ব অপরিসীম। কুরআন ও সুন্নাহ আমাদের শেখায়—সততা, ন্যা...